চাহিদা অস্বাভাবিক হারে কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে কোকোর দামে বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছে। পণ্যটির বাজারদর শুক্রবার দুই বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। কোকোর পাশাপাশি চিনির দামও নিম্নমুখী হয়েছে। তবে ভিয়েতনামের সরবরাহ সংকটে রোবাস্তা কফির দাম ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
কোকোর বৈশ্বিক চাহিদায় বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দেয়ায় শীর্ষ উৎপাদক দেশগুলোয় মজুদ বাড়ছে। এর প্রভাবে শুক্রবার নিউইয়র্কের বাজারে কোকোর দাম ৬ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে। পণ্যটির দাম টনপ্রতি ৪ হাজার ৫৬ ডলারে নেমে আসে, যা দুই বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এ সময় লন্ডনের বাজারেও কোকোর দাম ৭ দশমিক ৮ শতাংশ কমে টনপ্রতি ২ হাজার ৯৬১ পাউন্ডে নেমেছে।
বাজারসংশ্লিষ্টরা জানান, শীর্ষ উৎপাদক দেশ আইভরি কোস্টে চাহিদা না থাকায় কোকোর মজুদ বেড়েছে। ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে অক্টোবর-ডিসেম্বর ইউরোপে কোকো ভাঙানোর পরিমাণ ২১ বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমেছে। বিশ্বের শীর্ষ চকোলেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ব্যারি ক্যালিবটও চলতি সপ্তাহে তাদের বিক্রয় হ্রাসের তথ্য প্রকাশ করেছে।
কমার্জব্যাংক এক নোটে জানিয়েছে, ২০২৪ সালে কোকোর দাম অতিরিক্ত বেড়ে গিয়েছিল। এর প্রতিবাদে অনেক মিষ্টান্ন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান পণ্যে কোকোর পরিমাণ কমিয়ে দেয়। এতে সামগ্রিকভাবে পণ্যটির চাহিদা কমেছে। কোকোর চাহিদা ও দাম পুনরায় বাড়তে আরো কিছুটা সময় লাগতে পারে।
কোকোর বিপরীত চিত্র দেখা গেছে কফির বাজারে। রোবাস্তা কফির দাম শুক্রবার ২ শতাংশ বেড়ে টনপ্রতি ৪ হাজার ১০৯ ডলারে পৌঁছেছে। কেনাবেচার এক পর্যায়ে এটি ৪ হাজার ১১৮ ডলারে উঠেছিল, যা ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ।
ব্যবসায়ীরা জানান, শীর্ষ উৎপাদক দেশ ভিয়েতনামের কৃষকরা বর্তমানে কফি মজুদ করছেন। স্থানীয় বাজারে গত বছরের তুলনায় দাম কম থাকায় তারা পণ্য বিক্রি করতে চাইছেন না। ফলে আগামী মাসের চান্দ্র নববর্ষের আগে বাজারে সরবরাহ যে হারে বাড়ার কথা ছিল, তা এখনো দৃশ্যমান হয়নি। এছাড়া অ্যারাবিকা কফির দামও ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে পাউন্ডপ্রতি ৩ দশমিক ৫৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত চিনির দাম দশমিক ৮ শতাংশ কমে পাউন্ডপ্রতি ১৪ দশমিক ৮৪ সেন্টে নেমেছে। সাদা চিনির দাম দশমিক ৯ শতাংশ কমে টনপ্রতি ৪২১ ডলার ৯০ সেন্টে স্থির হয়েছে।
ব্রাজিলের আখচাষী সমিতি ওরপ্লানার প্রধান নির্বাহী হোসে গুইলহার্ম নোগুয়েরা এক সাক্ষাৎকারে জানান, চিনির কম দাম ও উচ্চ উৎপাদন খরচের কারণে কৃষকরা আখ চাষে বিনিয়োগ কমিয়ে দিচ্ছেন। উৎপাদন লাভজনক না হওয়ায় অনেক চাষী নতুন করে আবাদ করতে আগ্রহী হচ্ছেন না।